সুভা গল্পের মূলভাব - সুভা গল্পের মূল বক্তব্য
সুভা গল্পের মূলভাবঃ
সুভা জন্মের পর কেউ ভাবেনি সে বোবা হবে । তাঁর দুই বোনের নামের সঙ্গে মিল রেখে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল কিন্তু সে কথা বলতে পারতো না । বোবা হওয়ার কারনে সবাই তাকে বোঝা মনে করতো বিশেষ করে মা যিনি মেয়েটিকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন । তবে তাঁর বাবা তাকে ভালোবাসতেন । সুভার কথা না থাকলেও তাঁর বড় বড় চেহারা - ভরা চোখ ছিল যেখানে তাঁর সব আবেগ প্রকাশ পেত । মানুষের সঙ্গ সে খুব বেশি পেত না, তাই প্রকৃতি ও পশুর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । সে গরু, ছাগল, বিড়াল-এই প্রাণীদের আপন করে নেই আর তারা ভাষাহীন হয়েও তাঁর দুঃখ বুঝতে পারতো । তাঁর একমাত্র মানুষ সঙ্গী ছিল প্রতাপ । যে এক গ্রাম্য যুবক, যে মাছ ধরতে ভালোবাসে । প্রতাপের কাছে সুভা ছিল এক নীরব সঙ্গী, যে শুধু পাশে বসে তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতো । সুভার মনে হতো, যদি সে কোন অলৌকিক শক্তি পেত তাহলে প্রতাপকে অবাক করে দিত! কিন্তু জীবন কখনো মনের মতো হয় না । সুভার মা-বাবা তাঁর বিয়ের কথা ঠিক করে এবং তাকে শহরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । বিদায়ের দিন প্রতাপ ঠাট্টা করে বলে "তোর বর জুটেছে নাকি?"
প্রতাপের মুখ থেকে এ কথা শুনে সুভার মন ভেঙে যায় । সে বাবার পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে কিন্তু কিছুই বদলায় না । যাবার আগের রাতে সুভা শেষবারের মতো তাঁর প্রিয় নদীর তীরে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । যে সে ধরিত্রীকে আকুল মিনতি করে বলছে, "আমাকে ছেড়ে দিও না!"
পরিশেষে, গল্পটি একটি দুঃখময় পরিস্থিতিতে শেষ হয় । সামাজিক চাপের করুণ পরিণতি এবং যারা ভিন্ন তাদের জন্য বোঝার এবং সহানুভূতির অভাবকে তুলে ধরে । গল্পটিতে সুভা হল ঐসব নীরব যন্ত্রণার প্রতিফলন যারা সামাজিক নিয়ম মেনে চলতে পারে না এবং এটি ঐতিহ্যগত সমাজে ব্যক্তি বিশেষ করে নারীদের উপর স্থাপিত কঠোর প্রত্যাশার সমালোচনা করে ।
মনের রঙের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url